রেচনতন্ত্র (পাঠ ১১ ও ১২)

অষ্টম শ্রেণি (মাধ্যমিক) - বিজ্ঞান - সমন্বয় ও নিঃসরণ | NCTB BOOK
875
Summary

রেচন প্রক্রিয়া ও শারীরিক সিস্টেম

রেচন পদার্থ দেহের জন্য ক্ষতিকর এবং অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য পদার্থ, যা দেহ থেকে বাদ দেওয়া প্রয়োজন। এর মধ্যে পানি, কার্বন ডাইঅক্সাইড, ইউরিয়া উল্লেখযোগ্য। যদি এই পদার্থগুলি নিয়মিত বাদ না দেওয়া হয়, তা শরীরে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে এবং স্বাস্থ্যহানির কারণ হতে পারে।

  • রেচন অঙ্গ: ফুসফুস, চর্ম এবং বৃক্ক।
  • কার্বন ডাইঅক্সাইড ফুসফুসের মাধ্যমে নিঃসৃত হয়।
  • বৃক্ক শরীর থেকে নাইট্রোজেনযুক্ত তরল এবং দূষিত পদার্থগুলি নিষ্কাশন করে।
  • মূত্রের মাধ্যমে শরীরের ৮০% নাইট্রোজেন বর্জ্য বের হয়।

নিঃশ্বাসের বাতাস পরীক্ষা

নিঃশ্বাসের বাতাসে কার্বন ডাইঅক্সাইডের উপস্থিতি পরীক্ষা করার জন্য চুনের পানি ব্যবহার করা হয়। নিঃশ্বাসের ফলে চুনের পানি ঘোলাটে হয়ে যায়, যা কার্বন ডাইঅক্সাইডের উপস্থিতি প্রমাণ করে।

নিঃশ্বাসের বাতাসে জলীয় বাষ্প পরীক্ষার জন্য কাচের উপর নিঃশ্বাস ফেলা হয়, যার ফলে কাচ ঘোলাটে হয়ে যায়, যা জলীয় কণার সৃষ্টি করে।

ঘাম ও মূত্র উৎপাদন

  • ঘাম ত্বকের লোমকূপ থেকে নির্গত হয়, যা পানির সাথে লবণ ও অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ ধারণ করে।
  • মূত্র বৃক্ক দ্বারা তৈরি হয়, যা রক্ত থেকে ক্ষতিকর পদার্থ ছেঁকে নিয়ে হালকা হলুদ মূত্র উৎপন্ন করে।
  • মূষ্ক মূত্র থলিতে জমা হয় এবং প্রয়োজন হলে প্রস্রাবের মাধ্যমে নিঃসৃত হয়।

নতুন শব্দ: অক্সিন, হরমোন, নিউরন, স্নায়ুসন্ধি, সিন্যাপস, গুরু মস্তিষ্ক, শ্বেত পদার্থ ইত্যাদি।

অধ্যায় থেকে শেখা:

  • নিউরনের গঠন দেহকোষ থেকে ভিন্ন।
  • সিন্যাপসে এক নিউরন থেকে অন্য নিউরনে স্নায়ু উদ্দীপনা প্রবাহিত হয়।
  • মেরুরজ্জুর ভিতরে ধূসর পদার্থ এবং বাইরের দিকে শ্বেত পদার্থ থাকে।
  • হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুস স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা নিয় controlled হয়।
চিত্র ৫.৭ রেচনতন্ত্র

 

আমরা নাক দিয়ে নিঃশ্বাস ছাড়ি। অতি গরমে গা ঘামে। এগুলো রেচন পদার্থ। অর্থাৎ রেচন পদার্থ হলো সেইসব পদার্থ যেগুলো দেহের জন্য ক্ষতিকর ও অপ্রয়োজনীয়। রেচন কাতে দেহের বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে বোঝায়। বিপাকের ফলে পানি, কার্বন ডাইঅক্সাইড, ইউরিয়া প্রভৃতি দূষিত পদার্থ দেহে প্রস্তুত হয়। এগুলো নিয়মিত ত্যাগ না করলে স্বাস্থ্যহানি ঘটে। এইসব দূষিত পদার্থ দেহের মধ্যে জমে বিষক্রিয়া দেখা দেয় এবং এর ফলে মৃত্যুও ঘটতে পারে। এ সকল বর্জ্য পদার্থ প্রধানত নিঃশ্বাস বায়ু, ঘাম এবং মূত্রের সাথে দেহের বাইরে চলে যায়। ফুসফুস, চর্ম ও বৃক্ক এই তিনটি রেচন অঙ্গ। কার্বন ডাইঅক্সাইড ফুসফুসের মাধ্যমে এবং লবণ জাতীয় ক্ষতিকর পদার্থ চর্মের মাধ্যমে বের হয়ে যায়। বৃক্কের মাধ্যমে দেহের নাইট্রোজেনযুক্ত তরল, দূষিত পদার্থ পরিত্যক্ত হয়। মূত্রের মাধ্যমেই দেহের শতকরা আশি ভাগ নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ পরিত্যক্ত হয়। তাই বৃক্কই প্রধানত রেচন অঙ্গ বলে বিবেচিত হয়। যে তন্ত্র রেচন কার্যে সাহায্য করে তাকে রেচনতন্ত্র বলে।

কাজ : নিঃশ্বাস বায়ুতে কার্বন ডাইঅক্সাইডের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ

প্রয়োজনীয় উপকরণ : টেস্টটিউব, কাচ বা প্লাস্টিকের নল, চুনের পানি

পদ্ধতি : একটি টেস্টটিউবের ভিতর কিছুটা স্বচ্ছ চুনের পানি নাও। এবার টেস্টটিউবটির মধ্যে কাচ বা প্লাস্টিকের নল প্রবেশ করাও এবং নলটিতে ফুঁ দাও। কী হয় লক্ষ করো। কিছুক্ষণ ফুঁ দেওয়ার পর দেখবে চুনের পানি ঘোলাটে
হয়ে যাচ্ছে। কেন এমন হলো?

আমরা জানি, কার্বন ডাইঅক্সাইড চুনের পানিকে ঘোলা করে। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, আমাদের নিঃশ্বাসের বায়ুতে কার্বন ডাইঅক্সাইড আছে।

 

অল্প পরিমাণ কার্বন ডাইঅক্সাইড দেহের জন্য তেমন ক্ষতিকর নয়। কিন্তু বেশি পরিমাণ কার্বন ডাইঅক্সাইড বিষাক্ত যা দেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। শ্বসন ক্রিয়ার সময় আমাদের দেহকোষ বর্জ্য হিসেবে এই গ্যাস তৈরি করে। কোষ থেকে রক্ত কার্বন ডাইঅক্সাইড বহন করে ফুসফুসে নিয়ে যায়। নিঃশ্বাসের বায়ুতে শতকরা ৪ ভাগ কার্বন ডাইঅক্সাইড থাকে। নিঃশ্বাসের বায়ুতে কার্বন ডাইঅক্সাইডের সাথে জলীয় বাষ্প থাকে।

কাজ : নিঃশ্বাস বায়ুতে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ

প্রয়োজনীয় উপকরণ : এক খন্ড কাচ বা আয়না

পদ্ধতি : শীতের সকালে একখন্ড কাচ বা আয়নার উপর মুখ দিয়ে (নাক দিয়ে নয়) নিঃশ্বাস ছাড়। কাচের উপর কী দেখতে পাচ্ছ? নিঃশ্বাসের বায়ুর সাথে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও জলীয়বাষ্প বের হয়। জলীয়বাষ্প ঠাণ্ডা কাচে জলীয় | কণার সৃষ্টি করে ফলে আয়না বা কাচখণ্ডটিকে ঘোলাটে ও কিছুটা অস্বচ্ছ দেখায়। কিছুক্ষণ পর আয়না থেকে জলীয় কণা উবে যায়। আয়নাটি আবার স্বচ্ছ দেখায়। । 

এ থেকে আমরা দেখতে পাচ্ছি নিঃশ্বাস বায়ুতে জলীয়বাষ্প থাকে।

 

ঘর্ম বা ঘাম
মানবদেহের বহিরাবরণ চর্ম বা ত্বক। ত্বকে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্র থাকে। এগুলো হলো লোমকূপ। এই সকল লোমকূপ দিয়ে ঘাম বের হয়। এই ঘামে সাধারণত পানির সাথে লবণ ও সামান্য কার্বন ডাইঅক্সাইড এবং অন্যান্য ক্ষতিকর বা অপ্রয়োজনীয় পদার্থ থাকে।

 

মূত্র
বৃক্ককে মূত্র তৈরির কারখানা হিসেবে অভিহিত করা হয়। দেহের পেছনের দিকে মেরুদণ্ডের দুই পাশে দুইটি বৃক্ক থাকে। বৃক্ক ছাঁকনির মতো কাজ করে। যকৃৎ আমাদের দেহের অতিরিক্ত অ্যামাইনো এসিডকে ভেঙ্গে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি করে। এগুলো দেহের জন্য ক্ষতিকর। বৃক্ক রক্ত থেকে ক্ষতিকর পদার্থ ছেঁকে নেয়। এই ক্ষতিকর পদার্থসমূহ পানির সাথে মিশে হালকা হলুদ বর্ণের মূত্র তৈরি করে এবং ইউরেটারের মাধ্যমে মূত্র থলিতে জমা হয়। নির্দিষ্ট সময় পর মূত্রের বেগ অনুভূত হয়। মলদ্বারের মতো মূত্রথলির দ্বারেও সংকোচন ও প্রসারণ পেশি থাকে। একে মূত্রপথ বলে। প্রয়োজনে পেশি সংকোচন ও প্রসারণের ফলে দেহ থেকে মূত্র নির্গত হয়।

 

নতুন শব্দ : অক্সিন, হরমোন, জিব্বেরেলিন, ইথিলিন, সাইটোকাইনিন, নিউরন, অ্যাক্সন, ডেনড্রন, ডেনড্রাইট, সিন্যাপস, গুরুমস্তিষ্ক, ধূসর পদার্থ, শ্বেত পদার্থ, পন্‌স, মেডুলা, প্রলম্বিত অংশ, আজ্ঞাবাহী স্নায়ু, অনুভূতিবাহী স্নায়ু, প্রতিবর্ত চক্র, প্রতিবর্ত ক্রিয়া

 

এ অধ্যায় পাঠ শেষে যা শিখলাম-

   - নিউরনে সেন্ট্রিওল থাকে না।

   - নিউরনের গঠন দেহকোষের চেয়ে ভিন্ন।

   - পরপর দুইটি নিউরনের প্রথমটার অ্যাক্সন ও পরেরটার ডেনড্রাইটের মধ্যে একটি স্নায়ুসন্ধি থাকে। একে সিন্যাপস বলে। সিন্যাপসের মধ্য দিয়েই একটি নিউরন থেকে স্নায়ু উদ্দীপনা পরবর্তী নিউরনে প্রবাহিত হয়।

   - গুরু মস্তিষ্কের ধূসর পদার্থের মধ্যে কয়েকটি স্তরে সাজানো বিশেষ স্নায়ুকোষ দেখা যায়। এই কোষগুলো গুরু মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশে স্থানে স্থানে গুচ্ছ বেঁধে স্নায়ুকেন্দ্র সৃষ্টি করে।

   - মেরুরজ্জুর ভিতরে থাকে ধূসর পদার্থ আর বাইরে থাকে শ্বেত পদার্থ।

   - হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, ক্ষরণকারী গ্রন্থি ইত্যাদি স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়।

Content added || updated By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...